ব্রিকওয়ার্ক বা ইটের গাঁথুনি হলো মসলা দিয়ে ইটকে একটি নির্দিষ্ট নকশায় জোড়া লাগিয়ে দেয়াল, কলাম বা অন্যান্য কাঠামো তৈরি করার কাজ। বাংলাদেশের আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে এটি অন্যতম প্রধান ধাপ। সাধারণত ১:৪ থেকে ১:৬ অনুপাতে সিমেন্ট ও বালির মিশ্রণ ব্যবহার করে এই গাঁথুনির কাজ করা হয়। সঠিক বন্ড, সমান জয়েন্ট এবং মানসম্পন্ন উপাদান ব্যবহার না করলে পুরো কাঠামোর স্থায়িত্ব ঝুঁকির মুখে পড়ে।
বাংলাদেশে এখনো বেশিরভাগ ভবনের দেয়াল ইট দিয়েই তোলা হয়। তাই বাড়ি তৈরির সময় ব্রিকওয়ার্ক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। একজন মালিক হিসেবে আপনি যদি উপাদানের মান, মিস্ত্রির কাজের ধরন আর সঠিক নিয়মকানুন বুঝে রাখেন, তাহলে পরবর্তীতে ফাটল বা আর্দ্রতার মতো সমস্যায় পড়তে হবে না।
ইটের গাঁথুনি বলতে কী বোঝায়?
ব্রিকওয়ার্ক হলো এমন এক নির্মাণ পদ্ধতি যেখানে ইটকে সিমেন্ট মসলা বা চুন-সুরকির মসলা দিয়ে ধাপে ধাপে সাজিয়ে শক্ত কাঠামো তৈরি করা হয়। এই কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবনের ওপরের ছাদ বা স্ল্যাবের ভার নিচে মাটিতে পৌঁছে দেওয়া এবং ঘরের ভেতর-বাইরে আলাদা করা।
বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের ব্রিকওয়ার্ক দেখা যায়। প্রথমটি হলো লোড-বিয়ারিং বা ভারবাহী দেয়াল, যা সরাসরি ছাদের ওজন ধরে রাখে। দ্বিতীয়টি হলো পার্টিশন ওয়াল বা বিভাজক দেয়াল, যা শুধু ঘর আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়। ভারবাহী দেয়ালের ক্ষেত্রে ইটের মান এবং মসলার শক্তি নিয়ে কোনো আপস করা চলে না। অন্যদিকে, বিভাজক দেয়ালে কিছুটা হালকা ইটও ব্যবহার করা যায়। তবে যেকোনো ধরনের দেয়ালই ভবনের মূল নকশা অনুযায়ী হতে হবে।
বাংলাদেশে কোন ইট ব্রিকওয়ার্কে ব্যবহার করা উচিত?
গাঁথুনির শক্তি পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি কেমন ইট ব্যবহার করছেন তার ওপর। বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের ইট পাওয়া যায়।
প্রথম শ্রেণির ইট: এগুলো ভালোভাবে পোড়া, শক্ত এবং দেখতে সমান হয়। আঘাত করলে ধাতব শব্দ হয়। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর ওজনের ২০ শতাংশের বেশি পানি শোষণ করে না। ভারবাহী দেয়াল, কলাম বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকওয়ার্কে সবসময় প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহার করা উচিত।
দ্বিতীয় শ্রেণির ইট: কিছুটা কম পোড়া বা আকারে সামান্য অসমান হতে পারে। এগুলো সাধারণত ভেতরের দিকের হালকা দেয়াল বা মেঝের নিচের ফিলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
পার্ফোরেটেড বা ফাঁপা ইট: মাঝখানে ছোট ছোট ফুটো থাকে। ওজনে হালকা এবং তাপ নিরোধক হিসেবে ভালো কাজ করে। তবে বাংলাদেশে এখনো সাধারণ কঠিন ইটের তুলনায় এর ব্যবহার কম।
ইট কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, ইটের গায়ে যেন বড় ফাটল বা পোড়ার দাগ না থাকে। নির্মাণ শুরুর আগে উপাদানের মান যাচাই করে নেওয়াটা বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করে।
ব্রিকওয়ার্কে বন্ড কী এবং এর ধরনগুলো কী কী?
ইটগুলোকে একটার ওপর একটা সাজানোর নির্দিষ্ট নকশাকে বন্ড বলে। সঠিক বন্ড ছাড়া দেয়াল শক্ত হয় না এবং সহজেই ভেঙে পড়তে পারে। বন্ডের মূল কাজ হলো উল্লম্ব জয়েন্টগুলো (vertical joints) যেন একটার ঠিক ওপরে আরেকটা না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করা।
ইংলিশ বন্ড
এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য বন্ড। এখানে এক সারি হেডার (ইটের ছোট দিক বা চওড়া অংশ) এবং পরের সারি স্ট্রেচার (ইটের লম্বা দিক) পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়। ভারবাহী দেয়াল বা ফাউন্ডেশনের ওপরের গাঁথুনির জন্য বাংলাদেশে ইংলিশ বন্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এর গাঁথুনি এতটাই মজবুত হয় যে ভারী লোড সহজেই বহন করতে পারে।
ফ্লেমিশ বন্ড
এই বন্ডে প্রতিটি সারিতে একটি হেডার এবং একটি স্ট্রেচার পাশাপাশি বসানো হয়। দেখতে সুন্দর হওয়ায় বাইরের দেয়ালে বা যেখানে চেহারা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে ভারবাহী ক্ষমতায় এটি ইংলিশ বন্ডের চেয়ে কিছুটা দুর্বল।
স্ট্রেচার বন্ড
শুধু ইটের লম্বা দিক দিয়ে গাঁথা হয়। আধা-ইট (সাড়ে ৪ ইঞ্চি) দেয়াল তোলার সময় এটি একমাত্র উপায়। এটি ভারবাহী দেয়াল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। রুম ডিভাইডার বা প্যারাপেট ওয়ালে এটি বেশি দেখা যায়।
গাঁথুনির মসলা: অনুপাত ও প্রস্তুতি
মসলা হলো ইটের ব্রিকওয়ার্কের আঠা। মসলা দুর্বল হলে দেয়াল যতই ভালো ইট দিয়ে গাঁথা হোক, তা টিকবে না। বাংলাদেশে সিমেন্ট মসলা সবচেয়ে জনপ্রিয়।
| কাজের ধরন | সিমেন্ট ও বালির অনুপাত | ব্যবহার |
|---|---|---|
| ভারবাহী দেয়াল ও ফাউন্ডেশন | ১:৪ | মূল কাঠামো, কলামের গাঁথুনি |
| সাধারণ দেয়াল | ১:৬ | পার্টিশন বা সাধারণ রুম ডিভাইডার |
| প্লাস্টারের নিচের গাঁথুনি | ১:৫ | বিশেষ ক্ষেত্রে |
মসলা তৈরির সময় বালি অবশ্যই পরিষ্কার এবং ধোয়া হতে হবে। বালিতে কাদা বা জৈব পদার্থ থাকলে সিমেন্টের সাথে এর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঠিকমতো হয় না। মসলা তৈরির পর সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার শেষ করতে হয়। জমে যাওয়া বা শুকিয়ে আসা মসলায় নতুন করে পানি মিশিয়ে আবার ব্যবহার করা উচিত নয়।
ধাপে ধাপে সঠিক ব্রিকওয়ার্কের নিয়ম
একটি মানসম্পন্ন দেয়াল তুলতে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ মেনে চলতে হয়। অভিজ্ঞ মিস্ত্রিরা এই ধাপগুলো স্বাভাবিকভাবেই অনুসরণ করেন, তবে মালিক হিসেবে আপনারও এগুলো জানা থাকা দরকার।
১. ইট ভেজানো: শুকনো ইটে সরাসরি মসলা লাগালে ইট মসলার পানি টেনে নেয়। ফলে সিমেন্ট ঠিকমতো সেট হতে পারে না এবং গাঁথুনি দুর্বল হয়ে যায়। তাই কাজ শুরুর অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে ইট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তবে ইট যেন পানিতে ভাসতে না থাকে, শুধু ভেতরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলেই চলবে।
২. বেড তৈরি: প্রথমে মসলার একটি সমান স্তর (বেড) বিছানো হয়। এই স্তরের পুরুত্ব সাধারণত ১০ মিলিমিটার বা প্রায় আধা ইঞ্চি হওয়া উচিত। এর চেয়ে মোটা বা চিকন হলে দেয়ালের শক্তি কমে যায়।
৩. ইট বসানো: ইটকে মসলার ওপর রেখে হাতুড়ির হাতল বা ট্রাওয়েল দিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে বসাতে হয়। এতে নিচের মসলা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফাঁকা জায়গা থাকে না।
৪. লেভেল ও প্লাম্ব চেক: প্রতিটি সারি বসানোর পর স্পিরিট লেভেল দিয়ে দেখতে হয় দেয়াল সোজা আছে কি না। আড়াআড়ি দিকে লেভেল (horizontal) এবং খাড়া দিকে প্লাম্ব (vertical) দুটোই নিখুঁত হতে হবে।
৫. জয়েন্ট পূরণ: ইট বসানোর পর পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো (perpends) ট্রাওয়েল দিয়ে মসলা দিয়ে ভরাট করতে হয়। কোনো জয়েন্ট যেন ফাঁকা না থাকে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হয়।
দেয়ালের উচ্চতা ও র্যাক ব্যাক নিয়ম
একদিনে অনেক উঁচু দেয়াল তোলা ব্রিকওয়ার্কে একটি বড় ভুল। সদ্য গাঁথা দেয়ালের মসলা শুকানোর জন্য সময় প্রয়োজন। একসাথে অনেক উঁচু করলে নিচের দিকের মসলা ওপরের চাপে বেরিয়ে আসে এবং দেয়াল হেলে পড়তে পারে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একদিনে সর্বোচ্চ ১.৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত দেয়াল তোলা উচিত। পরের দিন আগের দিনের কাজ শুকিয়ে গেলে তার ওপর বাকি অংশ শুরু করতে হয়।
যখন দেয়াল তোলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়, তখন দেয়ালের মাথা সোজা কেটে রাখা যায় না। একে র্যাক ব্যাক (racking back) বলে। অর্থাৎ, ওপরের দিকের সারিগুলো ধাপে ধাপে ছোট করে সিঁড়ির মতো রেখে দেওয়া হয়। পরে কাজ শুরু করলে এই ধাপগুলোর ফাঁকে ইট বসিয়ে নতুন গাঁথুনির সাথে পুরোনো অংশ শক্তভাবে যুক্ত করা যায়।
BNBC এবং স্থানীয় অনুমোদনে ব্রিকওয়ার্কের শর্ত
বাংলাদেশে ভবন নির্মাণে Bangladesh National Building Code (BNBC) মেনে চলতে হয়। BNBC-তে ব্রিকওয়ার্কের উপাদান, দেয়ালের সর্বনিম্ন পুরুত্ব এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে এই মানদণ্ডগুলো জানা থাকা জরুরি।
উদাহরণস্বরূপ, ভারবাহী দেয়ালের পুরুত্ব সাধারণত ১০ ইঞ্চি (এক ইট) বা তার বেশি হতে হয়। পার্টিশন দেয়াল ৫ ইঞ্চি (আধা ইট) হতে পারে। ঢাকায় রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ভবন তোলার সময় অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী দেয়ালের অবস্থান ও পুরুত্ব ঠিক রাখতে হয়। অনুমোদন ছাড়া দেয়ালের নকশা পরিবর্তন করলে পরবর্তীতে সমাপ্তি সনদ পেতে সমস্যা হতে পারে।
এছাড়া, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশে দেয়ালের নির্দিষ্ট দূরত্বে আরসিসি কলাম এবং লিন্টেল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। শুধু ইটের ওপর পুরো ভরসা না রেখে কাঠামোগত নকশা অনুযায়ী রড ও কংক্রিটের সমন্বয় রাখতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণে গণপূর্ত অধিদপ্তর (PWD) যে হার নির্ধারণ করে, সেখানেও ব্রিকওয়ার্কের মান ও অনুপাত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গাঁথুনির সুরক্ষা
বাংলাদেশের আবহাওয়া ব্রিকওয়ার্কের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। বছরের ছয় মাস বর্ষা, প্রচণ্ড আর্দ্রতা আর গ্রীষ্মের তীব্র খরা, সবকিছু মিলিয়ে দেয়ালের ওপর চাপ পড়ে।
বর্ষাকাল: বৃষ্টির সময় খোলা দেয়ালে গাঁথুনির কাজ করা উচিত নয়। সদ্য বসানো মসলা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যেতে পারে। কাজ বন্ধ রাখার সময় দেয়ালের ওপর পলিথিন বা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা ভালো।
গ্রীষ্মকাল: তীব্র রোদে মসলার পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে সিমেন্ট ঠিকমতো শক্ত হওয়ার আগেই আর্দ্রতা হারায়। তাই গরমের সময় দেয়াল গাঁথার পর কয়েক দিন নিয়মিত পানি ছিটিয়ে কিউরিং করতে হয়।
লবণাক্ততা: উপকূলীয় এলাকায় যেমন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বা খুলনার কিছু অংশে মাটি ও পানিতে লবণের আধিক্য থাকে। এই লবণ ইটের ভেতর প্রবেশ করে এফ্লোরেসেন্স (সাদা দাগ) তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইট ক্ষয় করে। এসব এলাকায় ভালো মানের পোড়া ইট এবং সালফেট-প্রতিরোধী সিমেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
ভবনের সঠিক দিকনির্দেশনা ও বায়ু চলাচলের পরিকল্পনা থাকলে দেয়ালে আর্দ্রতা জমার প্রবণতা অনেক কমে যায়।
ব্রিকওয়ার্কে সাধারণ ভুল যা এড়ানো উচিত
অনেক সময় অজ্ঞতা বা তাড়াহুড়ো করে গাঁথুনির কাজে এমন কিছু ভুল হয়, যা পরে বড় সমস্যা তৈরি করে।
- শুকনো ইট ব্যবহার: পানিতে না ভিজিয়ে ইট বসালে মসলা দুর্বল হয়ে যায়। এটি সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
- মোটা জয়েন্ট: মসলার স্তর এক ইঞ্চির বেশি হলে দেয়াল সংকুচিত হওয়ার সময় ফেটে যায়। ১০ মিলিমিটারের বেশি জয়েন্ট রাখা উচিত নয়।
- ভুল বন্ড: খরচ কমাতে বা তাড়াহুড়ো করে অনেক সময় স্ট্রেচার বন্ডে ভারবাহী দেয়াল তোলা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
- মসলায় কাদাযুক্ত বালি: নদীর বালির বদলে কাদা মেশানো বালি ব্যবহার করলে সিমেন্টের শক্তি কমে যায়।
- একদিনে পুরো দেয়াল তোলা: মসলা শুকানোর সময় না দিয়ে একটানা ছাদ পর্যন্ত দেয়াল তুললে কাঠামো হেলে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
- দাঁত বা র্যাক ব্যাক না রাখা: কাজ বন্ধ রাখার সময় দেয়াল সোজা কেটে রাখলে পরে নতুন ইটের সাথে পুরোনো দেয়াল জোড়া লাগে না।
গাঁথুনির কাজ শেষে কিউরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ
ব্রিকওয়ার্ক শেষ হলেই কাজ শেষ নয়। মসলাকে পূর্ণ শক্তি অর্জন করতে হলে কিউরিং অপরিহার্য। গাঁথুনির কাজ শেষ হওয়ার পর অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন দেয়ালে নিয়মিত পানি দিতে হয়। বিশেষ করে শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ায় এটি না করলে মসলা ফেটে যায়।
দেয়াল তোলার পর প্লাস্টার করার আগে দেয়াল ভালোভাবে শুকানোর সময় দেওয়া উচিত। ভেতরের আর্দ্রতা আটকে গেলে পরে প্লাস্টারে ফোস্কা পড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে দেয়ালে চুলের মতো ফাটল দেখা দিলে সেটি মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। ফাটল যদি শুধু প্লাস্টারে থাকে, তাহলে সমস্যা কম। কিন্তু ফাটল যদি ইটের জয়েন্ট ধরে সিঁড়ির মতো নিচের দিকে নামে, তাহলে বুঝতে হবে ব্রিকওয়ার্কে বা ভিত্তিতে সমস্যা আছে। এমন অবস্থায় দ্রুত একজন প্রকৌশলীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্রিকওয়ার্ক সম্পর্কিত প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এক বর্গমিটার দেয়ালে কয়টি ইট লাগে?
১০ ইঞ্চি (এক ইট) পুরু দেয়ালের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে সাধারণত ১০০ থেকে ১১০টি মানসম্মত ইট প্রয়োজন হয়। আর ৫ ইঞ্চি (আধা ইট) দেয়ালের জন্য প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি ইট লাগে। ইটের আকার এবং মসলার পুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা সামান্য কমবেশি হতে পারে।
গাঁথুনির কাজে সিমেন্ট নাকি চুনের মসলা ভালো?
বর্তমানে বাংলাদেশে কাঠামোগত কাজে সিমেন্ট মসলাই ব্যবহৃত হয় কারণ এটি দ্রুত শক্ত হয় এবং বেশি ভার সহ্য করতে পারে। তবে পুরোনো আমলের ভবন সংস্কার বা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে চুন-সুরকির মসলা ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি কিছুটা নমনীয় এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।
দেয়াল গাঁথার পর কতদিন অপেক্ষা করতে হয়?
দেয়াল তোলার পর মসলা প্রাথমিক শক্তি পেতে অন্তত ৩ থেকে ৭ দিন সময় লাগে। তবে লিন্টেল বা ছাদের বিম ঢালাইয়ের আগে দেয়াল অন্তত ৭ থেকে ১৪ দিন কিউরিং হওয়া উচিত। এর আগে ভার চাপালে দেয়াল ফেটে যেতে পারে।
ইটের দেয়ালে কি সরাসরি প্লাস্টার করা যায়?
হ্যাঁ, তবে প্লাস্টারের আগে দেয়ালের গায়ে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে নিতে হয়। এছাড়া, ইটের জয়েন্টগুলো সামান্য খোদাই করা থাকলে প্লাস্টার ভালোভাবে আটকে থাকে। খুব মসৃণ ইটের গায়ে প্লাস্টার সহজে ধরে না।
ব্রিকওয়ার্কে ফাঁকা জয়েন্ট থাকলে কী সমস্যা হয়?
ফাঁকা জয়েন্ট থাকলে দেয়ালের ভারবহন ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি সেই ফাঁকা দিয়ে বৃষ্টির পানি বা আর্দ্রতা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এটি দেয়ালের স্থায়িত্ব নষ্ট করে এবং ভেতরের আসবাবপত্রের ক্ষতি করে।
সঠিক ব্রিকওয়ার্ক যেকোনো স্থাপনার মেরুদণ্ড। ইটের মান, মসলার সঠিক অনুপাত, নিয়মমাফিক বন্ড এবং কিউরিংয়ের প্রতি যত্নশীল হলে দেয়াল দশকের পর দশক টিকে থাকে। বাড়ি তৈরির সময় এই বিষয়গুলোতে মিস্ত্রির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেরও নজরদারি রাখা উচিত। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করে নিলে নির্মাণের মান অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।


